বাংলা ভাগের কারিগর
স্বাধীনতার এত বছর পরেও বাংলা ভাগের জন্য কেবল মাত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং মুসলিম লিগকে…
স্বাধীনতার এত বছর পরেও বাংলা ভাগের জন্য কেবল মাত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং মুসলিম লিগকে দায়ী করা হয়। কিন্ত বাংলা ভাগের পেছনে কলকাতা কেন্দ্রিক ভদ্রলোকদের যে এক বিরাট ভূমিকা ছিল, সেই কথাটা আলোচনায় কখনও আসে না। বাংলা ভাগের পটভূমি ১৭৫৭ খৃষ্টাব্দে পলাশির যুদ্ধে বাংলার শেষ মুঘল নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পতন হয়। সেই সঙ্গে বাংলার মাটিতে দীর্ঘ…
পলাশির যুদ্ধের পর ইংরেজ শাসনকে অভিজাত শ্রেণীর বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায় স্বাগত জানিয়েছিল। নবাবি আমলে আরবি ফারসী শিখে সরকারি চাকরির উঁচু উঁচু পদগুলো তারাই দখল করে রেখেছিল। এখন তারা ইংরেজের প্রভুত্বকে শুধু স্বাগত জানাল তাই নয়, ইংরেজি শিক্ষা, তাদের সংস্কৃতি, তাদের জীবন-দর্শনকে সম্পূর্ণরূপে করায়ত্ত করবার জন্য উঠে পড়ে লাগল। ওদিকে ইংরেজরা তাদের রাজত্ব কেড়ে নিয়েছে, তাই…
“রণধারা বাহি জয়গান গাহি উন্মাদ কলরবেভেদি মরুপথ গিরিপর্বত যারা এসেছিল সবে,তারা মোর মাঝে সবাই বিরাজে কেহ নহে নহে দূর,আমার শোণিতে রয়েছে ধ্বনিতে তারি বিচিত্র সুর।” রক্তের মিশ্রণ, ভূগোল ও ইতিহাসের এক মহাকাব্য আজকের পৃথিবীতে পরিচয়ের প্রশ্ন ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। ধর্ম, ভাষা, জাতি, রাষ্ট্র, সংস্কৃতি সব মিলিয়ে মানুষ নিজের অস্তিত্বকে সংজ্ঞায়িত করতে চায়। বাংলার ক্ষেত্রেও…
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে যদি কয়েকটি শব্দকে জাতীয় জাগরণের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করতে হয়, তবে “বন্দেমাতরম” নিঃসন্দেহে তার অন্যতম। উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কলমে জন্ম নেওয়া এই গান পরবর্তী প্রায় সাত দশক ধরে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের এক শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, বিপ্লবী সংগঠনের কার্যকলাপ, স্বদেশি আন্দোলন এবং স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল জনসমুদ্র—সব…
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বাঙালি মুসলিম ভোট এক নির্ণায়ক শক্তি। কিন্তু স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরও পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি মুসলমানরা রাজনৈতিক দলগুলির কাছে ভোট ব্যাংকের বেশি কিছু নন। শাসক দলের সীমাহীন দুর্নীতি, শিক্ষা ব্যবস্থার করুণ অবস্থা, বিশেষ করে মুসলমান প্রধান অঞ্চলে সরকারি স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া, সরকারি চাকরি, ওবিসি, ওয়াকফ, পরিযায়ী শ্রমিক – ইত্যাদি ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিশ্বাসঘাতকতা, একদিকে…
ধর্মনিরপেক্ষতা ভারতীয় সংবিধানের একটি মৌলিক এবং অ-আলোচনাযোগ্য নীতি। ভারতীয় প্রেক্ষাপটে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে ধর্মহীনতা বোঝায় না; বরং এটি নির্দেশ দেয় যে রাষ্ট্র ধর্মবিশ্বাসের বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে। রাষ্ট্রের নিজের কোনো ধর্মীয় পরিচয় থাকবে না; রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে বিশেষ অনুগ্রহ করবে না বা কোনো ধর্মের হয়ে প্রচার করবে না। ভারতীয় সংবিধানের ১৪, ১৫, ২৫, ২৭ এবং…
মধ্যযুগে অবিভক্ত বাংলার মুসলমান শাসকরা অর্থাৎ গৌড়ের সুলতান, মুঘল সুবেদার এবং মুর্শিদাবাদের নবাবরা জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব বাঙালিদেরকেই সম্মানজনক সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। যে সুযোগ আগে অর্থাৎ সেন আমলে শুধুমাত্র উচ্চবর্ণের জন্য নির্ধারিত ছিল। নিম্ন বর্ণের মানুষদের না ছিল কোন সম্মানজনক পেশা, না ছিল কোন সামাজিক মর্যাদা। মুসলমান শাসনামলে অসংখ্য হিন্দু…
জম্মুতে মুসলমানরা কিভাবে সংখ্য়ালঘু হলো। “কাশ্মির ফাইল”এর পর “বারামুল্লা” । কাশ্মীরের অশান্তিকে সামনে রেখে ভারতীয় মুসলমানদেরকে একটা সন্ত্রাসবাদী সম্প্রদায় হিসাবে দেখানোর প্রচেষ্টা, বলিউডি-হিন্দুস্থানি প্রপাগাণ্ডা চলছেই। প্রশ্ন হচ্ছে, ১৯৯০ সালে পণ্ডিতদের সাথে কী ঘটেছিল, তার জন্য যদি একটার পর একটা সিনেমা তৈরি করা হয়, তাহলে ১৯৪৭ সালে জম্মুতে মুসলমানদের সাথে কী ঘটেছিল তার জন্য কেন একটাও…
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন – “জগন্নাথ-মন্দির একটি প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির। আমরা ঐটিকে এবং অন্য়ান্য বৌদ্ধ মন্দিরকে হিন্দু মন্দির করিয়া লইয়াছি।” তবুও আজকের দিনে পুরির জগন্নাথ-মন্দিরকে পুনরায় বৌদ্ধ মন্দিরে রূপান্তরিত করার কথা কেউ বলেনা। এই ধরনের কাজ আজকের দিনে আমরা কেউই সমর্থন করব না। কিন্তু প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) ডি.ওয়াই. চন্দ্রচূড় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে রাম মন্দির…
হিন্দুত্ববাদীরা বাংলা ভাগের সমর্থনে যুক্তি দিতে গিয়ে, ১৯৪৬ সালের আগষ্টে কলকাতায় হিন্দু মুসলমানের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, এবং ৪০০০এরও বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা বলে থাকে। কিন্তু তার মাত্র কয়েক মাস আগে, এই শহর কলকাতাতেই ১৯৪৬ সালেরই ফেব্রুয়ারিতে আর একটা দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছিল, যখন হিন্দু মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য়বাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল।…