logo
DONATE NOW
Powered By Cashfree logo
logo
DONATE NOW
Powered By Cashfree logo
দেশভাগ ও বাঙালি জীবন

১৯৬৪-র কলকাতা দাঙ্গা: দেশভাগের আড়ালে ঢাকা পড়া বাঙালি মুসলমানদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ট্র্যাজেডি।

১৯৪৭ সালের দেশভাগ বাঙালির জীবনে যে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় তৈরি করেছিল, সেটা কিন্তু একতরফা ছিল না। প্রায় ১০ লক্ষ হিন্দু শরণার্থী যেমন ভিটেমাটি ত্যাগ করে পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে প্রবেশ করেছিল, তেমনই প্রায় ৭ লক্ষ মুসলমান শরণার্থী নিজেদের ভিটেমাটি ত্যাগ করে ভারত থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রবেশ করেছিল। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে উভয়পক্ষের দুর্ভোগ এবং মানবিক বিপর্যয় প্রায় সমান ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাকেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবীদের লেখা বা আলোচনা থেকে দেশভাগের ফলে বাঙালি জীবনের বিপর্যয়ের যে চিত্র আমরা পাই, সেটাকে কিন্তু একতরফা প্রচার বা প্রপাগান্ডা বললে অত্যুক্তি হবে না। সাহিত্যে, সিনেমায়, পত্র-পত্রিকায় পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত হিন্দু বাস্তুহারাদের জীবনযন্ত্রণা নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে এবং আজও হয়ে থাকে, ভারত থেকে পূর্ব পাকিস্তানে যাওয়া মুসলমান বাস্তুহারাদের নিয়ে সেইভাবে কোনো আলোচনা বা লেখালেখি কিন্তু আমরা দেখি না। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের জনমানসে দেশভাগজনিত বিপর্যয় নিয়ে একটা একপেশে এবং ভ্রান্ত ধারণার জন্ম হয়েছে, যেটা হওয়া কখনও উচিত ছিল না।

আবার ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাংলাভাষী জনগণের উপর উর্দুভাষী পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক জান্তা যে ভয়ঙ্কর অত্যাচার, নিপীড়ন, খুন, অপহরণ ও ধর্ষণের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল, সেটা কিন্তু কোনো দিক দিয়েই সাম্প্রদায়িক ছিল না। তারপরেও মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আনুমানিক যে ৭২ লাখ ৩৬ হাজার জন শরণার্থী বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করে, তাদের মধ্যে প্রায় ৯৫%ই ছিল বাঙালি হিন্দু। নিজের জন্মভূমির মাটিতে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানি দখলদারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশগ্রহণকারী বাঙালি হিন্দুদের উপস্থিতি ছিল নামমাত্র। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে যে প্রায় ৩০ লক্ষ বাঙালির মৃত্যু হয়েছিল (মতান্তরে ৩ লক্ষ), তাদের প্রায় সবাই ছিল মুসলিম। অথচ প্রচারের এমনই মহিমা যে, এপার বাংলায় অনেকেই মনে করেন, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বেছে বেছে শুধুমাত্র হিন্দুদের উপরই অত্যাচার, খুন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটেছে। এবং এটা করেছে শুধুমাত্র মুসলমানরা (পাকিস্তানি খান সেনাদের কথা বলাই হয় না)।

আর এই সব একপেশে প্রচার-প্রপাগান্ডার মাঝে চাপা পড়ে গেছে কলকাতার সেই ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা, যার শিকার ছিল মূলত বাঙালি মুসলমানরা। ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পর এটাই ছিল কলকাতায় ঘটা প্রথম তীব্র ধর্মীয় সহিংসতা। সুসংগঠিতভাবে দফায় দফায় মুসলমানদের জীবন, সম্মান এবং সম্পত্তির উপর আক্রমণ করা হয়। সরকারি হিসেবেই মৃতের সংখ্যা ছিল ১০০ থেকে ৫০০-র কাছাকাছি, এবং প্রায় ৭০,০০০ মুসলমানকে নিজেদের ঘরবাড়ি, মসজিদ ও কবরস্থান ফেলে পালিয়ে যেতে হয়। যার ফলে সোনারপুর থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের যাদবপুর, সেলিমপুর, ওমরপুর, যোধপুর, টালিগঞ্জ, গড়িয়াহাট, শিয়ালদহ, মানিকতলা, কাঁকুড়গাছি, বাগমারি বা বেলেঘাটার মতো একসময়ের বাঙালি মুসলমান প্রধান এলাকাগুলো প্রায় মুসলমানশূন্য হয়ে পড়ে।


১৯৬৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর জম্মু ও কাশ্মীরের হজরতবাল দরগাহ থেকে ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি সংরক্ষিত পবিত্র স্মারক (দাড়ির কয়েকগাছি চুল) চুরি হয়ে যায়। এই ঘটনাটি ভারত ও তৎকালীন পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিবাদ ও গণ-আন্দোলনের জন্ম দেয়। প্রতিবাদ আন্দোলন শেষপর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি হিংসাত্মক দাঙ্গায় রূপ নেয়, যার ফলে ২৯ জন হিন্দু নিহত হন। দাঙ্গার ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে কয়েকশ হিন্দু শরণার্থী সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেন। এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ এলাকায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ উসকে দেয়।

পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর সহিংসতার খবর কলকাতার সংবাদমাধ্যম ও সীমান্ত পেরিয়ে আসা শরণার্থীদের মাধ্যমে শহর ও শহরতলিতে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৪ সালের ৮ জানুয়ারি গভীর রাতে মধ্য কলকাতার শিয়ালদহ এলাকায় বিক্ষুব্ধ হিন্দু জনতা মুসলিমদের দোকানপাট জোর করে বন্ধ করে দেয়।

৯ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর আক্রমণের প্রতিবাদে শহরের বিভিন্ন অংশে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। একটি বিশাল মিছিল পূর্ব পাকিস্তানের ডেপুটি হাই কমিশনারের কাছে গিয়ে পাকিস্তানি সরকারের কাছ থেকে হিন্দু ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং সহিংসতায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানায়। তারা পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের কুশপুত্তলিকাও দাহ করে। সন্ধ্যায় প্রধানত ছাত্রদের দ্বারা পরিচালিত একটি মিছিলের ওপর মধ্য কলকাতায় হিন্দি-উর্দুভাষী মুসলমান প্রধান এলাকা ওয়েলিংটন ক্রসিংয়ে একদল লোক লাঠি, ইট এবং সোডা-ওয়াটার বোতল নিয়ে হামলা চালালে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ওই রাতেই মধ্য কলকাতায় এক হিন্দুকে মুসলিম জনতা কুপিয়ে হত্যা করে। এর ফলে স্থানীয় হিন্দুদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

১০ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে কলকাতার তালতলা, বেনিয়াপুকুর, এন্টালি এবং বেলেঘাটা থানা এলাকায় দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে বিচ্ছিন্ন হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের খবর পাওয়া যায়। পুলিশ পাঁচবার গুলি চালায় এবং ৩৬ রাউন্ড টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। এর পাশাপাশি কলকাতার আশপাশের হিন্দু ছাত্ররা স্কুল-কলেজ বর্জন করে এবং ২৯ জন হিন্দুর প্রাণহানির প্রতিবাদে পাকিস্তান হাই কমিশনারের দিকে পদযাত্রা আয়োজন করে। এসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে যাদবপুরের কাছে অ্যান্ড্রুজ কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের এক হিন্দু ছাত্র পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এরপর পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায় এবং তরুণ, যুবক, সাধারণ জনগণ ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি করে। অন্যদিকে বনগাঁ অঞ্চলসহ মহেশতলা, রাজাবাজার, বেলেঘাটা, এন্টালি এবং সোনারপুরে জনতার সাথে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে।

দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ১১ জানুয়ারি সেনাবাহিনী তলব করা হয়। কলকাতায় সহিংসতা চরম আকার ধারণ করে। যাদবপুর, বজবজ, মেটিয়াবুরুজ, মহেশতলা এবং সোনারপুর এলাকায় রাত ১০টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। শহরের উপকণ্ঠের পরিস্থিতিও ছিল ভয়াবহ; বনগাঁর কাছে গাইঘাটায় পুলিশ একদল হিন্দু জনতাকে একটি মুসলিম গ্রামে হামলা চালাতে বাধা দেয়, এবং দাঙ্গাকারীদের হাতে তিনজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। ভারতীয় সেনাবাহিনী বিকেলে কলকাতায় প্রবেশ করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা নামার আগেই সেনাবাহিনী জনতা ও লুটেরাদের ওপর দুবার গুলি চালায়। ওই রাতে শহরের ১০টি পুলিশ ওয়ার্ডের ৮টিতেই সন্ধ্যা-থেকে-ভোর পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয় এবং পূর্ব কলকাতার বস্তি এলাকায় সৈন্যরা টহল দেয়। রাতের মধ্যে জানা যায় যে গত তিন দিনে ষাট জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। শুধুমাত্র ওই একদিনেই ৫০টিরও বেশি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ৯ থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রায় ২০,০০০ মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে প্রবেশ করেন, যেখানে পুরুষের তুলনায় নারী ও শিশুর সংখ্যা ছিল তিন গুণ।

১২ জানুয়ারিতেও একই তীব্রতায় দাঙ্গা চলতে থাকে। কেরোসিনে ভেজা কাপড় দিয়ে মসজিদ এবং মুসলিমদের দোকান ও ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। শিয়ালদহ, তালতলা, বেলেঘাটা, এন্টালি, বেনিয়াপুকুর, গড়িয়াসহ শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে চরম সহিংসতার খবর আসতে থাকে। আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিবেশী রাজ্যগুলো থেকে তিন ব্যাটালিয়ন পুলিশসহ আরও এক ব্যাটালিয়ন সেনাসদস্যকে কলকাতায় পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

১৩ জানুয়ারির মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের অবস্থা অত্যন্ত করুণ হয়ে পড়ে। সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়, শহরের ৭০,০০০-এরও বেশি মুসলিম ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন বলে অনুমান করা হয়। যদিও ছুরিকাঘাত ও বোমা হামলার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছিল, তবে দাঙ্গার বেশিরভাগ ঘটনায় মুসলিমদের সম্পত্তি লুটপাট ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। দাঙ্গা শুরুর পর থেকে গুলিবর্ষণে ১১০ জনেরও বেশি মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় এবং দমকলকর্মীদের ২০০টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা সামাল দিতে হয়। বেশ কিছু দোকান ও বাসস্থানের সাথে দুটি রাবার কারখানাতেও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। মুসলিমদের ওপর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট বেড়ে যাওয়ার পর শহরের পাঁচটি এলাকায় ২৪ ঘণ্টার কারফিউ বাড়ানো হয়। বাস ও ট্রাম চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং অধিকাংশ দোকান ও বাজার বন্ধ ছিল।


১৯৪৬-এর দাঙ্গার মতো এই দাঙ্গাও শুরু হয়েছিল মধ্য কলকাতার উর্দুভাষী মুসলমান প্রধান ঘনবসতি এলাকা থেকে। মধ্য কলকাতার এই এলাকা বরাবরই বহিরাগত খুনি, গুন্ডা, সুযোগসন্ধানী হিন্দি-উর্দুভাষী লুটেরাদের বাস। খুন-খারাবি, লুটপাট প্রাথমিকভাবে তারাই শুরু করেছিল। কিন্তু তার ফলভোগ করতে হয়েছিল কলকাতার গ্রাম্য এলাকার নিরীহ বাঙালি মুসলমানদের। সংখ্যাগুরু হিন্দু বাঙালি কলকাতাকে একপ্রকার মুসলমানশূন্য করতে দৃঢ়সংকল্প ছিল। তাই তুলনামূলকভাবে প্রাণহানির ঘটনা কম ঘটলেও, পরিকল্পিতভাবে দফায় দফায় দলবদ্ধভাবে মুসলমানদের দোকানপাট, ঘরবাড়ি, জমি-জায়গার ওপর আক্রমণ করা হয়। প্রায় ৭০,০০০ মুসলমান পরিবারকে নিজেদের ঘরবাড়ি, মসজিদ, কবরস্থান ফেলে পালিয়ে যেতে হয়। যার ফলে সোনারপুর থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের যাদবপুর, সেলিমপুর, ওমরপুর, যোধপুর, টালিগঞ্জ, গড়িয়াহাট, শিয়ালদহ, মানিকতলা, কাঁকুড়গাছি, বাগমারি বা বেলেঘাটার মতো একসময়ের বাঙালি মুসলমান প্রধান এলাকাগুলো প্রায় মুসলমানশূন্য হয়ে পড়ে। দাঙ্গার ফলে যারা বাধ্য হয়ে নিজেদের ঘরবাড়ি, জমি-জায়গা ফেলে পালিয়ে গিয়েছিল, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে তাদের ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে রাজ্য সরকার মুসলমানদের জমি-জায়গা সব দখল করে নেয়। পরবর্তীতে এই সব দখল করা জায়গাতে সরকারি মদতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত হিন্দু বাস্তুহারাদের জন্য কলোনি গড়ে ওঠে। এখনো এই সব অঞ্চলে অনেক মসজিদ, মাজার, কবরস্থান দেখতে পাওয়া যায়, যার আশেপাশে কোনো মুসলমান বসতি নেই—অর্থাৎ এককালে ছিল, এখন নেই। দাঙ্গার ভয়াবহতার মধ্যেও যে গুটিকয়েক মুসলমান পরিবার সাহসে ভর করে টিকে ছিল, তারা তাদের চোখের সামনেই তাদেরই জমি-জায়গা দখল করে বিলাসবহুল বহুতল বাসস্থান তৈরি হতে দেখেছে, কিন্তু তাদের আর্থিক অবস্থা, সামাজিক সম্মান দিন দিন করুণ থেকে আরও করুণ হয়েছে। পালিয়ে যাওয়ার পরে আশায় বুক বেঁধে যারা ফিরে এসেছিল, তাদের ঘরবাড়ি, জমি-জায়গা সরকারি মদতে সব বেদখল হয়ে যাওয়ায় চরম দারিদ্র্যের শিকার হয়ে গড়িয়া, টালিগঞ্জ, রাজাবাজার বা জ্যোতি নগরের মতো কিছু নির্দিষ্ট এলাকার অতি সংকীর্ণ অঞ্চলে কোনক্রমে মাথা গুঁজে থাকার ব্যবস্থা করেছে। অথচ আজকের দক্ষিণ কলকাতার বহুতল আবাসন, ঝাঁ-চকচকে শপিং মল—বেশির ভাগই তৈরি হয়েছে এককালের এদেরই জমি-জায়গার ওপর। দেশভাগের ফলে ওপার বাংলা থেকে ছিন্নমূল হয়ে আসা হিন্দু শরণার্থীদের নিয়ে কাব্য, উপন্যাস, নাটক, সিনেমা, গান, রাজনীতি সবই হয়, কিন্তু নিজেদের দেশে পরবাসী হয়ে যাওয়া এই মানুষগুলোকে নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না। কোনো সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে এক লাইন লেখাও এদের জন্য বরাদ্দ হয়নি। কোনো টিভি চ্যানেলে এদের দুরাবস্থা নিয়ে ঘণ্টাখানেক আলোচনা হয় না। তার ফলে এদের উপস্থিতির কথা কেউ জানতেও পারে না।


তথ্যসূত্রঃ

Wikipedia: 1964 Calcutta riots
Sage Journals: The making of Muslim ghettos in Calcutta, 1946–64
BBC: 1964: Riots in Calcutta leave more than 100 dead
The Newwork Times: Root of Calcutta riots


বাংলা এবং বাঙালির জন্য লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের সাহায্য করুন।
আমরা কোনো কোটিপতি বা বড় কোনো কোম্পানি নই – আমাদের পাঠকরাই আমাদের সমর্থন করেন। আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ এবং সাহসী প্রচেষ্টার জন্য অনুদান দিয়ে আমাদের পাশে থাকুন।
We are not billionaires or big companies – our readers support us. Support us by donating to this important and courageous effort.

logo
DONATE NOW
Powered By Cashfree logo