logo
DONATE NOW
Powered By Cashfree logo
logo
DONATE NOW
Powered By Cashfree logo
ইতিহাস ও ঐতিহ্য

বর্গী এল দেশে – বাংলায় মারাঠা যুদ্ধাপরাধ

মধ্যযুগে সারা পৃথিবী যুড়ে যত নৃশংস গণহত্যা লুণ্ঠন নারীদের উপর পাশবিক অত্যাচার যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত হয়েছিল – বাংলায় বর্গী আক্রমন ছিল সেগুলোর মধ্যে সবচাইতে ঘৃণ্য এবং নৃশংসতম। আমাদের পত্র-পত্রিকায়, রাজনৈতিক বক্তৃতায় সুলতান মাবুদ, নাদির শাহের মত ইসলাম ধর্মাবলম্বী হানাদার লুঠেরাদেরকে নিয়ে যত কথা বলা হয়, বাংলায় শৈব-হিন্দু বর্গী লুঠেরাদেরকে নিয়ে কিন্তু সে রকম কোন আলোচনা হয় না। বর্গীরা আর্য, হুন, কুশান বা মোঙ্গোলদের মত ভারতের বাইরে থেকে আসা কোন লুঠেরা হানাদার বাহিনী ছিল না। এই ভারতেরই নাগপুর রাজ্যের মারাঠা রাজা রঘুজী ভোঁসলে আর তার সেনাপতি ভাস্কর পণ্ডিত তার দলবল নিয়ে দীর্ঘ দশ বছর ধরে বার বার আদিম লালশায় বাঙালিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

অনুমান করা হয়, নবাব আলীবর্দী খানের সময় সুবে বাংলা থেকে কিছু লোক গিয়ে শিব ভক্ত মারাঠা প্রধানমন্ত্রী ভাস্কর পণ্ডিতের সঙ্গে দেখা করে, তাকে বাংলা আক্রমণ করতে উৎসাহিত করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল বাংলা থেকে মুসলমান শাসনের অবাসন ঘটানো। ভারত চন্দ্র রায়ের অন্নদামঙ্গল কাব্যে এ সমন্ধে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। 

আছয়ে বর্গীর রাজা গড় সেতারায়।
আমার ভকত বড় স্বপ্ন কহ তায়।।
সেই আসি যবনেরে করিবে দমন।
শুনি নন্দী তারে গিয়া কহিলা স্বপন।।
স্বপন দেখি বর্গীরাজা হইল ক্রোধিত।
পাঠাইল রঘুরাজা ভাস্কর পণ্ডিত।।
বর্গি মহারাষ্ট্র আর সৌরাষ্ট্র প্রভৃতি।
আইল বিস্তর সৈন্য বিকৃতি আকৃতি।।

এর পরিণামে মারাঠা বর্গী লুঠেরা বাহিনী পর পর ৬ বার বাংলা আক্রমণ করে। যদিও প্রতিবারেই নবাবের সৈন্য সম্মুখ যুদ্ধে তাদের পরাজিত করে। 

লুঠি বাঙ্গালার লোকে করিল কাঙ্গাল।
গঙ্গা পার হৈল বান্ধি নৌকার জাঙ্গাল।।
কাটিল বিস্তর লোক গ্রাম গ্রাম পুড়ি।
লুঠিয়া লইল ধন ঝিউড়ী বহুড়ী।।

নৃশংস বর্গী লুঠেরারা ছোট ছোট টাট্টু ঘোড়ার পিঠে চেপে, হর হর মহাদেব ধ্বনী দিয়ে পশ্চিমবাঙ্গলার হিন্দু প্রধান গ্রামগুলিকে ঘিরে লুন্ঠন অত্যাচার চালাত। পশ্চিমবাঙ্গলার গ্রামগুলি বরাবরই হিন্দু প্রদান ছিল, এখনও তাই। শিব ভক্ত মারাঠাদের অত্যাচারের হাত থেকে হিন্দু বাঙালির বিষ্ণু মোণ্ডবও রেহাই পেত না।

বাঙ্গালা চৌআরি জত বিষ্ণু মোণ্ডব ।
ছোট বড় ঘর আদি পোড়াইল সব।।


মারাঠারা যে কি নৃশ্ংস বীভৎস অত্যাচার চালিয়েছিল তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। বর্গীদের অত্যাচার সম্বন্ধে সমসাময়িক কবি গঙ্গারামের মহারাষ্ট্র পুরাণে মারাঠাদের এই য়ুদ্ধপরাধের বর্ণনা পাওয়া যায় –

ছোট বড় গ্রামে জত লোক ছিল ।
বরগির ভএ সব পলাইল ॥
চাইর দিগে লোক পলাঞ ঠাঞি ঠাঞি ।
ছর্ত্তিস বর্ণের লোক পলাএ তার অন্ত নাঞি ॥
এই মতে সব লোক পলাইয়া জাইতে ।
আচম্বিতে বরগি ঘেরিলা আইসা সাথে ॥
মাঠে ঘেরিয়া বরগি দেয় তবে সাড়া ।
সোনা রূপা লুটে নেএ আর সব ছাড়া ॥


কার হাত কাটে কার নাক কান ।
একি চোটে কারা বধএ পরাণ ॥
ভাল ভাল স্ত্রীলোক জত ধইরা লইয়া জাএ।
অঙ্গুষ্ঠে দড়ি বাঁধি দেয় তার গলাএ ॥
একজনে ছাড়ে তারে আর জনা ধরে।
রমণের ভরে ত্রাহি শব্দ করে ॥
এই মতে বরগি কত পাপ কর্ম্ম কইরা ।
সেই সব স্ত্রীলোকে জত দেয় সব ছাইড়া ॥


তবে মাঠে লুটিয়া বরগি গ্রামে সাধাএ ।
বড় বড় ঘরে আইসা আগুনি লাগাএ ॥
বাঙ্গালা চৌআরি জত বিষ্ণু মোণ্ডব ।
ছোট বড় ঘর আদি পোড়াইল সব ॥


এই মতে জতসব গ্রাম পোড়াইয়া ।
চতুর্দ্দিগে বরগি বেড়াএ লুটিয়া ॥
কাহুকে বাঁধে বরগি দিআ পিঠ মোড়া ।
চিত কইরা মারে লাথি পাএ জুতা চড়া ॥
রূপি দেহ দেহ বোলে বারে বারে ।
রূপি না পাইয়া তবে নাকে জল ভরে ॥
কাহুকে ধরিয়া বরগি পথইরে ডুবাএ ।
ফাকর হইঞা তবে কারু প্রাণ জাএ ॥

—মহারাষ্ট্র পুরাণ, চিন্তয়সী সংস্করণ, ১৩৭৩


বাংলা জয় করা মারাঠি বর্গী লুঠেরা বাহিনীর উদ্দেশ্য ছিল না, বাংলার ধন সম্পদ লুঠ করা, বাঙালি নারীদের উপর পাশবিক অত্যাচার করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। তাই বর্গীরা সরাসরি নবাবের সৈন্যের মুখোমুখি হতো না। নবাব আলীবর্দীর রাজধানীতে অনুপস্থিতির সুযোগে মারাঠা লুঠেরা নায়ক ভাস্কর পণ্ডিত এক রাত্রির মধ্যে ৭০০ অশ্বারোহী সৈন্যসহ ৪০ মাইল পার হয়ে মুর্শিদাবাদ শহর আক্রমণ করে সারাদিন ধরে লুঠ-পাঠ করতে থাকে —পরদিন সকালে ( ৭ই মে, ১৭৪২ খ্রীষ্টাব্দ ) আলীবর্দী মুর্শিদাবাদে পৌঁছিলে, মারাঠা সৈন্য মুর্শিদাবাদ থেকে পালিয়ে যায় এবং পালাবার পথে মারাঠা হানাদারেরা পথিমধ্যে অসংখ্য গ্রাম জ্বালিয়ে দেয় এবং জ্বলন্ত গ্রামসমূহের সারি তাদের পদচিহ্ন হিসেবে থেকে যায়। ১৭৪২ সালের জুনে মারাঠারা হুগলী দখল করার পর তাদের উপদ্রবে এই অঞ্চলের লোকের দুর্দশা চরমে পৌঁছে। মারাঠারা অসংখ্য সাধারণ মানুষকে হত্যা করে। বিপুলসংখ্যক নারী মারাঠাদের হাতে ধর্ষিত হয়। ফলে বহু মানুষ তাদের পরিবারের নারীদের সম্মান রক্ষার জন্য তাদের বাড়িঘর ত্যাগ করেন এবং গঙ্গানদীর পূর্বতীরে চলে গিয়ে গোদাগারী-তে আশ্রয় নেন। মারাঠা লুণ্ঠনের ভয়ে বণিক এবং তাঁতিরা বীরভূম থেকে পালিয়ে যান। অন্যান্য অঞ্চলে মারাঠা ধ্বংসযজ্ঞে ভয় পেয়ে রেশমি বস্তুসামগ্রী প্রস্তুতকারীরা পালিয়ে যায়। রেশম এবং কাপড়ের কারখানা ও বিক্রয়কেন্দ্রগুলো পরিত্যক্ত হয়, খাদ্যশস্য দুর্লভ হয়ে পড়ে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সব ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়।

নবাবের তাড়া খেয়ে মুর্শিদাবাদ থেকে পালিয়ে গিয়ে মারাঠারা কাটোয় দখল করে নেয় এবং সেখানে ভয়ঙ্কর উপদ্রব চালাতে থাকে। আলীবর্দী নিশ্চিন্ত ছিলেন না। বর্ষাকালে পাটনা ও পূর্ণিয়া থেকে সৈন্য সংগ্রহ করে বর্ষাশেষে তিনি কাটোয়া আক্রমণ করলেন। সেসময় মারাঠারা লুঠ করা টাকায় খুব ধুমধামের সঙ্গে দুর্গা পূজা করছিল– কিন্তু সারারাত ঘোড়া ছুটিয়ে ঘোরা- পথে এসে আলীবর্দীর সৈন্য হঠাৎ করে নবমীর দিন সকালবেলা নিদ্রিত মারাঠা সৈন্যকে আক্রমণ করল। এবারেও মারাঠারা বিনা যুদ্ধে পালিয়ে গেল। ভাস্কর পণ্ডিত পলাতক মারাঠা সৈন্য সংগ্রহ করে মেদিনীপুর অঞ্চল লুঠ করতে লাগল, সেখানকার একটি বিখ্যাত রেশম-পালন কেন্দ্র রাধানগর লুঠপাট করে জ্বালিয়ে দিল এবং কটক অধিকার করেনিল। কিন্তু আলীবর্দী সসৈন্যে অগ্রসর হয়ে যখন কটক পুনরায় দখল করে নিলেন মারাঠারা চিল্কা হ্রদের দক্ষিণে পালিয়ে গেল (ডিসেম্বর, ১৭৪২ খ্রীষ্টাব্দ)।


এরকমভাবে দীর্ঘ দশ বছরব্যাপী মারাঠা হানাদারেরা বাংলার জনগণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত ছিল। মারাঠারা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের জনসাধারণের কাছ থেকে খাজনা দাবি করে। জনসাধারণ এই খাজনা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয়। খাজনা দিতে অপারগ হওয়ার কারণে মারাঠা অসংখ্য মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে। অনেক ক্ষেত্রে তারা উদ্দেশ্যহীনভাবে বহু মানুষকে হত্যা করে কিংবা বিকলাঙ্গ করে দেয়।

একজন সমসাময়িক ঐতিহাসিক লিখেছেন, মারাঠারা গর্ভবতী নারী এবং শিশুদেরকেও হত্যা করত। এক হিসাব অনুযায়ী, দশ বছরব্যাপী মারাঠা আক্রমণের ফলে বাংলায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রায় ৪,০০,০০০ অধিবাসী প্রাণ হারায়। দশ বছরব্যাপী বাংলা আক্রমণকালে অসংখ্য নারী মারাঠাদের হাতে নির্যাতিত হয়। মারাঠারা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সুন্দরী নারীদের অপহরণ করে। অসংখ্য নারী মারাঠা সৈন্যদের হাতে গণধর্ষণের শিকার হয়। সমসাময়িক সূত্রসমূহের বর্ণনানুযায়ী, মারাঠা সৈন্যরা হিন্দু নারীদের মুখে বালি ভরে দিত, তাদের হাত ভেঙ্গে দিত এবং পিছমোড়া করে বেঁধে তাদেরকে গণধর্ষণ করত। সমসাময়িক বাঙালি কবি গঙ্গারাম নারীদের ওপর মারাঠাদের অত্যাচারের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, তারা সুন্দরী নারীদের টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যেত এবং দড়ি দিয়ে তাদের আঙ্গুলগুলো তাদের ঘাড়ের সঙ্গে বেঁধে দিত। একজন বর্গি (মারাঠা সৈন্য) একজন নারীর সম্ভ্রমহানি করার পরপরই আরেকজন বর্গি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। এসব নারীরা যন্ত্রণায় চিৎকার করত। এইসব পাপপূর্ণ কার্যকলাপের পর তারা এসব নারীদেরকে মুক্ত করে দিত। 

‘‘কারু হাত কাটে, কারু নাক কান,
একি চোটে কারু বধ এ পরাণ।
ভাল ভাল স্ত্রীলোক যত ধইরা লইয়া জাএ
আঙ্গুষ্ঠে দড়ি বাঁধি দেয় তার গলা এ।
একজনে ছাড়ে তারে আর জনে ধরে
রমণের ডরে ত্রাহি শব্দ করে’’।

সমসাময়িক বর্ধমানের মহারাজার রাজসভার পণ্ডিত বানেশ্বর বিদ্যালঙ্কারও মারাঠা সৈন্যদের সম্পর্কে লিখেছেন, তারা সমস্ত সম্পত্তি লুণ্ঠন করে এবং সতী স্ত্রীদের অপহরণ করে।

১৭৪৩ সালে মারাঠা সাম্রাজ্যের পেশোয়া বালাজী, মুঘল সম্রাটের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এক চুক্তি অনুযায়ী রঘুজীর হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করার জন্য বাংলায় প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু লুটতরাজের ব্যাপারে বালাজীর ‘রক্ষক’ বাহিনী ভক্ষকের ভূমিকা পালন করে। তারা রঘুজীর হানাদার বাহিনীর থেকে কোন অংশে কম ছিল না। তারাও গ্রামের পর গ্রাম লুঠপাট করে আগুনে পুড়িয়ে ছারখার করেদেয়।

ইতিমধ্যে মারাঠা রাজ সাহু রঘুজী ভোঁসলা ও বালাজী পেশোয়াকে ডেকে উভয়ের মধ্যে গোলমাল মিটিয়ে দিলেন (৩১শে অগস্ট, ১৭৪৩ খ্রীষ্টাব্দ), আগে রঘুজী ও বালাজী পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। দুই লুঠেরা বাহিনীর মধ্য়ে বাংলার চৌথ আদায়ের বাটোয়ারা হল। বিহারের পশ্চিম ভাগ পড়ল পেশোয়ার ভাগে, আর বাংলা, উড়িষ্যা ও বিহারের পূর্বভাগ পড়ল ভোঁসলার ভাগে। স্থির হল যে, উভয়ের নিজেদের অংশে যথেচ্ছ লুঠতরাজ করতে পারবে। একজন অপরজনকে বাধা দিতে পারবে না। এই বন্দোবস্তের ফলে ভাস্কর পণ্ডিত পুনরায় মেদিনীপুরে প্রবেশ করে লুঠপাট চালাতে লাগল (মার্চ, ১৭৪৪ খ্রীষ্টাব্দ)।

সমস্ত ব্যাপার শুনে নবাব আলীবর্দী এইবার ‘শঠে শাঠ্যং সমাচরেৎ’ নীতি অবলম্বন করলেন। নবাব আলীবর্দীর অধীনে ৯০০০ অশ্বারোহী ও কিছু পদাতিক আফগান সৈন্য ছিল। এই সৈন্যদলের অধ্যক্ষ গোলাম মুস্তাফা খান নবাবের অনুগত ও বিশ্বাস- ভাজন ছিলেন এবং তাঁহারই পরামর্শে ও সাহায্যে ভাস্কর পণ্ডিতকে নবাবের তাঁবুতে আমন্ত্রণ করা হল। ভাস্কর পণ্ডিত নবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিতে ইতস্তত করলে গোলাম মুস্তাফা কোরানের শপথ করে তাঁকে অভয় দেন এবং সঙ্গে করে নবাবের তাঁবুতে নিয়ে আসেন। ভাস্কর পণ্ডিত নবাবের তাঁবুতে পৌছিলে তাঁর ২১ জন সেনানায়ক ও অনুচর সহ তাঁকে হত্যা করা হল (৩১শে মার্চ, ১৭৪৪ খ্রীষ্টাব্দ)। অমনি মারাঠা সৈন্য বাংলা দেশ ত্যাগ করে পালিয়ে গেল।

নবাব অঙ্গীকার করিয়াছিলেন যে গোলাম মুস্তাফা ভাস্কর পণ্ডিত ও মারাঠা সেনানায়কদের হত্যা করতে পারলে তাঁকে বিহার প্রদেশের শাসনকর্তা নিযুক্ত করবেন। কিন্তু যে লোক কোরানের শপথ করে ডেকে নিয়ে এসে অতিথিকে খুন করতে পারে, সে ভবিষ্য়তে নবাবের সঙ্গেও বিশ্বাষঘাতকতা করতে পারে। তাই নবাব এই প্রতিশ্রুতি পালন করলেন না। গোলাম মুস্তাফা বিহারে গিয়ে বিদ্রোহ করে এবং রঘুজী ভৌসলাকে বাংলা দেশ আক্রমণ করিতে উত্তেজিত করতে থাকে। কিন্তু নবাব আলীবর্দী পাটনার নিকট গোলাম মুস্তাফাকে পরাজিত করেন, এই সুযোগে রঘুজী বর্ধমান পর্যন্ত এসে লুঠপাট করতে থাকে।

অবশেষে ১৭৫১ সালে নবাবের সঙ্গে মারাঠাদের শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে মারাঠা আক্রমণের সমাপ্তি ঘটলে বাঙ্গলার জনগণের দুর্ভোগের অবসান ঘটে। 

মুসলমান নবাবি শাসনের অবশান ঘটানোর জন্য ব্রাহ্মণ্যবাদী চক্রান্তে বহিরাগত শিব ভক্ত হানাদার লুঠেরা বাহিনীকে বাংলায় ডেকে আনার এই ছিল পরিণতি।


বাংলা এবং বাঙালির জন্য লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের সাহায্য করুন।
আমরা কোনো কোটিপতি বা বড় কোনো কোম্পানি নই – আমাদের পাঠকরাই আমাদের সমর্থন করেন। আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ এবং সাহসী প্রচেষ্টার জন্য অনুদান দিয়ে আমাদের পাশে থাকুন।
We are not billionaires or big companies – our readers support us. Support us by donating to this important and courageous effort.

logo
DONATE NOW
Powered By Cashfree logo